জাপানিরা বলে, "সঙ্গীত নাক দিয়ে শোনা হয়।" এই প্রবাদটি এক গভীর, স্বজ্ঞামূলক উপলব্ধিকে বোঝায় যা শ্রবণেন্দ্রিয়ের ঊর্ধ্বে। এর শিকড় হাজার বছরের পুরোনো এক ঐতিহ্যে প্রোথিত, যেখানে শিল্পের প্রকৃত উপভোগের জন্য...
জাপানিরা বলে, "সঙ্গীত নাক দিয়ে শোনা হয়।" এই প্রবাদটি এক গভীর, স্বজ্ঞামূলক উপলব্ধিকে বোঝায় যা শ্রবণেন্দ্রিয়ের ঊর্ধ্বে। এর শিকড় হাজার বছরের পুরোনো এক ঐতিহ্যে প্রোথিত, যেখানে শিল্পের প্রকৃত উপভোগের জন্য এর 'সত্তা'কে ধারণ করতে একটি বহুমাত্রিক ইন্দ্রিয়ের প্রয়োজন হয়।
এই বাক্যাংশটির উৎস হলো কোডো (香道), যা ধূপের সুগন্ধ 'শোনার' একটি শিল্প। মুরোমাচি যুগে (১৩৩৬-১৫৭৩) অভিজাতরা কেবল উদ-এর মতো দামী রজন শুঁকতেন না। তাঁরা ধ্যানমগ্ন হয়ে এর সূক্ষ্ম সুর 'শুনতেন' এবং ইতিহাস অনুধাবনের চেষ্টা করতেন।
এই দর্শন সকল শিল্পকলায় ছড়িয়ে পড়েছে। সঙ্গীতকে 'নাক দিয়ে শোনা' মানে হলো এর অদৃশ্য 'আভা', এর আবেগিক অন্তর্নিহিত অর্থ এবং সুরের মধ্যবর্তী নীরবতাকে ধারণ করা। এর অর্থ হলো সুরকারের অভিপ্রায় অনুধাবন করা এবং প্রতিটি বাক্যাংশের গভীরতা অনুভব করা, উদাহরণস্বরূপ, কোটোর জন্য রচিত সঙ্গীতে।
জাপানি সঙ্গীতে *মা* (間)-এর উপর জোর দেওয়া হয় – অর্থাৎ ধ্বনিসমূহের মধ্যবর্তী তাৎপর্যপূর্ণ বিরতি ও শূন্যস্থান। শাকুহাচি বাঁশির ধ্যানমগ্ন সুর কিংবা নোহ-এর অপেরাধর্মী পরিবেশনা শ্রোতাকে কেবল কান দিয়ে শুনলেই চলে না, বরং তাঁর সমগ্র সত্তা দিয়ে নীরবতার নাটকীয়তাকে "অনুভব" করতে হয়।
সুতরাং, ‘নাক দিয়ে শোনা’ হলো শিল্পের এক গভীর ও সামগ্রিক উপলব্ধি: তা সে সুগন্ধ, শব্দ বা চিত্রকর্ম যা-ই হোক না কেন। এটি আরও সচেতনভাবে নিমগ্ন হওয়ার এক আহ্বান। নিজেই চেষ্টা করে দেখুন: চোখ বন্ধ করে আপনার প্রিয় সুরটির ‘গন্ধ’ নিন, এর প্রকৃত নির্যাস অনুভব করুন।
Select how you want to watch this video