আপনি কি কখনো নিজেকে শূন্যে তাকিয়ে থাকতে দেখেছেন? এই অবস্থায় আপনার মস্তিষ্ক নিষ্ক্রিয় থাকে না। ২০১৩ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের গবেষণায় যেমনটা নিশ্চিত করা হয়েছে, এটি তথাকথিত "ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক"...
আপনি কি কখনো নিজেকে শূন্যে তাকিয়ে থাকতে দেখেছেন? এই অবস্থায় আপনার মস্তিষ্ক নিষ্ক্রিয় থাকে না। ২০১৩ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের গবেষণায় যেমনটা নিশ্চিত করা হয়েছে, এটি তথাকথিত "ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক" বা ডিএমএন (DMN) সক্রিয় করে তোলে। এটি এক ধরনের রিবুট। এই 'স্থবির' সময়কালে, প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের কার্যকলাপ কমে যায়, যা মনোযোগের জন্য দায়ী। কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ইইজি (EEG) গবেষণায় দেখা গেছে যে, ৮-১২ হার্জ কম্পাঙ্কের আলফা তরঙ্গ বৃদ্ধি পায়। এটি মানসিক চাপ কমায় এবং মস্তিষ্ককে বাহ্যিক কোনো প্রভাব ছাড়াই তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে সাহায্য করে। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী স্কট ব্যারি কফম্যান একে "ইতিবাচক গঠনমূলক দিবাস্বপ্ন" বলে অভিহিত করেন। এটি পর্যায় সারণীর মতো আবিষ্কারে অবদান রেখেছে, যা তিনি স্বপ্নে পেয়েছিলেন, অথবা আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব, যা ঘণ্টার পর ঘণ্টা চিন্তাভাবনার মাধ্যমে তাঁর মাথায় এসেছিল। এটি কেবল মনোযোগের বিচ্যুতি নয়, বরং একটি সক্রিয় জ্ঞানীয় প্রক্রিয়া। কোনো একটি কাজে নিবদ্ধ মনোযোগের বিপরীতে, একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা মস্তিষ্কের মধ্যে সংযোগমূলক সম্পর্ককে উদ্দীপ্ত করে। স্নায়ুবিজ্ঞানীদের মতে, এটি এক ধরনের মৃদু জেন ধ্যানের মতো, যেখানে মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হয়ে উপলব্ধির ক্ষেত্রকে প্রসারিত করে। নিজেকে এই ছোট মানসিক বিরতিগুলো দেওয়ার মাধ্যমে আপনি সময় নষ্ট করেন না, বরং আপনার মস্তিষ্ককে নতুন ধারণা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রসদ জোগান দেন। হার্ভার্ডের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড্যানিয়েল শ্যাকটার প্রমাণ করেছেন যে, এই ধরনের ২০-সেকেন্ডের বিরতি পরবর্তী কর্মক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তোলে। আপনার দৈনন্দিন জীবনে এই ক্ষুদ্র বিরতিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করুন!
Select how you want to watch this video