ভাবুন তো: ভোরবেলা, আপনি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, আর হঠাৎ জানালায় একটি মটরের সশব্দ টোকা পড়ল! এটা কোনো দুষ্টুমি নয়, বরং একজন ‘ঘুম ভাঙানোর কর্মী’-র কাজ—শিল্পযুগের এক অত্যাবশ্যকীয় পেশা, যা হাজার...
ভাবুন তো: ভোরবেলা, আপনি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, আর হঠাৎ জানালায় একটি মটরের সশব্দ টোকা পড়ল! এটা কোনো দুষ্টুমি নয়, বরং একজন ‘ঘুম ভাঙানোর কর্মী’-র কাজ—শিল্পযুগের এক অত্যাবশ্যকীয় পেশা, যা হাজার হাজার শ্রমিকের সময়নিষ্ঠা নিশ্চিত করত।
উনিশ শতকের ব্রিটেনে, বিশেষ করে ম্যানচেস্টার ও লিভারপুলের মতো কারখানা-শহরগুলোতে, অনেক শ্রমিকের অ্যালার্ম ঘড়ি ছিল না। দেরি এড়ানোর জন্য, ‘ওয়েক-আপ কলার’ বা ঘুম ভাঙানোর কর্মীরা তাদের শিফটের জন্য জাগিয়ে দিতেন, যা কখনও কখনও ভোর ৫টাতেই শুরু হতো।
তাদের সরঞ্জামগুলোর মধ্যে তার লাগানো লম্বা লাঠি থেকে শুরু করে শুকনো মটর বা বালি ভরা আসল ফুঁকনি পর্যন্ত ছিল। এই পদ্ধতির মাধ্যমে তারা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ভেতরে প্রবেশ না করেই ওপরের তলার মানুষদের জাগিয়ে তুলতে পারত।
নামমাত্র পারিশ্রমিকের বিনিময়ে, যা সাধারণত সপ্তাহে কয়েক পেন্স হতো, তারা নিয়মমাফিক নিজেদের পাড়ায় হেঁটে প্রতিটি জানালায় টোকা দিত। এটা ছিল গতানুগতিক কিন্তু দায়িত্বপূর্ণ কাজ, কারণ কারখানায় দেরি করলে মোটা অঙ্কের জরিমানা হতো।
বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এই পেশাটি বিলুপ্ত হয়ে যায়, যখন ব্যক্তিগত অ্যালার্ম ঘড়ি সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হয়ে ওঠে। তবে, পেশাটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত, শেষ 'অ্যালার্ম ঘড়ি নির্মাতারা' ১৯৫০-এর দশক পর্যন্ত উত্তর ইংল্যান্ডের বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলিতে কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন।
Select how you want to watch this video