0:00 / 0:00

ভাবুন তো: আধুনিক লন্ডনে, যেখানে সিরি এবং গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট লক্ষ লক্ষ মানুষকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে, সেখানেও 'ওয়েক-আপ কল পার্সন' বা ঘুম ভাঙানোর লোক হওয়ার পেশাটি এখনও সগৌরবে টিকে আছে। ভিক্টোরিয়ান যুগের কথা মনে করিয়ে দেওয়া এই অনন্য বিশেষজ্ঞেরা এক বিশেষ পরিষেবা দিয়ে থাকেন। ঐতিহাসিকভাবে, ‘নক-আপ’রা লম্বা লাঠি দিয়ে ইস্ট এন্ডের ভবনগুলোর জানালায় আঘাত করে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের ঘুম থেকে জাগাত। সাশ্রয়ী অ্যালার্ম ঘড়ির প্রচলনের আগে তারা কারখানাগুলোতে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করত। আজকাল, এটি শুধু ঘুম ভাঙানোর একটি মাধ্যম নয়। মেফেয়ার বা বেলগ্রেভিয়ার মতো অভিজাত এলাকাগুলোতে এই পরিষেবাটি 'ডিজিটাল ডিটক্স' বা স্মৃতিকাতর অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তির চেয়ে ব্যক্তিগত ছোঁয়াকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। যারা গোপনীয়তাকে গুরুত্ব দেন, ইলেকট্রনিক্স এড়িয়ে চলেন, অথবা কিছু বিলাসবহুল হোটেলের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে সত্য। কল্পনা করুন, ভোর ৬টায় স্বয়ংক্রিয় ডোরবেলের পরিবর্তে আপনার জানালায় একটি নম্র টোকা শুনতে পাচ্ছেন। সুতরাং, একবিংশ শতাব্দীর কেন্দ্রস্থলে, সিটি ও ওয়েস্টমিনস্টারের আকাশচুম্বী অট্টালিকাগুলোর মাঝে, এই 'জীবন্ত অ্যালার্ম ঘড়ি' ব্যক্তিগত পরিষেবার প্রতীক হয়ে রয়েছে। মানুষের সংস্পর্শ অমূল্য, এমনকি সবচেয়ে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত শহরগুলোতেও।