0:00 / 0:00

অষ্টাদশ শতাব্দীতে ‘চুল উপড়ানো’ নামে এক ভয়ঙ্কর পেশা ছিল। তাদের কাজ ছিল পঞ্চদশ লুইয়ের মতো অভিজাতদের পরিহিত ফ্যাশনেবল পাউডারযুক্ত পরচুলার জন্য কাঁচামাল সংগ্রহ করা। এর চাহিদা ছিল বিপুল, প্রতি বছর হাজার হাজার কিলোগ্রাম চুলের প্রয়োজন হতো। এটি ছিল এক নির্মম ব্যবসা। সবচেয়ে দামি পরচুলাগুলোর দাম ২০০ লিভ্‌র পর্যন্ত হতো এবং এগুলোর জন্য মানুষের চুল প্রয়োজন হতো। সোনালি বা ধূসর চুল অত্যন্ত মূল্যবান ছিল। চুল সংগ্রহকারীরা দাতার সন্ধানে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড জুড়ে ঘুরে বেড়াত। কৃষাণীরা প্রায়ই তাদের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য সামান্য কিছু সু-এর বিনিময়ে নিজেদের বেণী বিক্রি করে দিত। ভার্সাই বা লন্ডনের বল নাচের অনুষ্ঠানে অভিজাতদের জন্য একটি বিশাল উইগ বানাতে প্রায় আধা কিলোগ্রাম পর্যন্ত চুলের প্রয়োজন হতো। কিছু 'উইগ-টানাওয়ালা' নির্জন স্থানে বলপ্রয়োগ করে মহিলাদের চুল কেটে বা ছিঁড়ে ফেলত। এটি ছিল একটি নিষ্ঠুর ও অশুভ ব্যবসা। উচ্চ চাহিদার কারণে একটি কালোবাজারের জন্ম হয়েছিল। উন্নত মানের চুলের মূল্য ছিল সোনার চেয়েও বেশি। যদিও কখনও কখনও হাসপাতাল থেকে বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তা সংগ্রহ করা হতো, কিন্তু তা দামি পরচুলার জন্য উপযুক্ত ছিল না। কেবল জীবন্ত ও স্বাস্থ্যকর চুলই মূল্যবান বলে বিবেচিত হতো। এই ভয়াবহ পেশাটি অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত প্রচলিত ছিল। ফরাসি বিপ্লব ফ্যাশনে পরিবর্তন আনে এবং পরচুলাকে ক্ষয়িষ্ণু অভিজাততন্ত্রের প্রতীকে পরিণত করে। এটা অবিশ্বাস্য যে মানুষের চুল এতটাই মূল্যবান ছিল যে তা অপরাধের কাজেও ব্যবহৃত হতো। ফ্যাশন মাঝে মাঝে অবাক করে দেয়!