0:00 / 0:00

আমরা দুঃখ পাওয়ার জন্য কেন অর্থ ব্যয় করি? ২০০৯ সালের 'হাচিকো' বা ১৯৯৭ সালের 'টাইটানিক'-এর মতো সিনেমা আমাদের কাঁদায়। এটা কোনো হেঁয়ালি নয়, বরং মস্তিষ্কের রসায়ন। এটি জটিল প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে আবেগীয় মুক্তি খোঁজে। ডোপামিন এবং অক্সিটোসিন এর সাথে জড়িত। স্নায়ুবিজ্ঞানী পল জ্যাক, যিনি ‘বিশ্বাসের হরমোন’ নিয়ে গবেষণা করেন, দেখিয়েছেন যে ১৯৯৯ সালের চলচ্চিত্র ‘দ্য গ্রিন মাইল’-এর মতো দুঃখের দৃশ্যগুলো অক্সিটোসিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই ‘আলিঙ্গনের হরমোন’ সহানুভূতি বৃদ্ধি করে এবং ডোপামিন তখন একটি পুরস্কার প্রদান করে। মস্তিষ্ক অন্যের কষ্টের প্রতি সহানুভূতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ হিসেবে গ্রহণ করে। আটলান্টিকের বরফশীতল জলে জ্যাক ডসনের মতো কষ্ট দেখলে মস্তিষ্ক অক্সিটোসিন নিঃসরণ করে। এটি সহানুভূতি ও সংযোগকে শক্তিশালী করে এবং এর পরবর্তী স্বস্তি ডোপামিনের একটি ঢেউ সৃষ্টি করে, যা আমাদের পুরস্কৃত করে। এটা আত্মপীড়ন নয়, বরং একটি বিবর্তনীয় প্রক্রিয়া। অন্যের কষ্টে সহানুভূতি সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করে এবং বাস্তব জীবনের চাপের জন্য আমাদের প্রস্তুত করে। ওহাইও বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ইমোশন' জার্নালে ২০১২ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে দুঃখের গল্প অংশগ্রহণকারীদের পরোপকারিতা বাড়িয়ে দিয়েছে। সুতরাং, যখন আপনি ২০০৪ সালের 'দ্য নোটবুক' দেখে কাঁদেন, তখন আপনার শরীর অক্সিটোসিন ও ডোপামিনের একটি 'ককটেল' তৈরি করে। এটি আপনাকে শুধু দুঃখীই করে না, বরং আরও সহানুভূতিশীল, শক্তিশালী এবং মানবিক করে তোলে। দুঃখের গল্প দেখতে লজ্জা পাবেন না; এটা আপনার জন্য ভালো!